Breaking News

চুল পড়ে যাচ্ছে? আপনার হাতের কাছেই সমাধান, আজই জেনে নিন

আমি আজকে সকালে নার্সারি থেকে একটা গোলাপের চারাগাছ কিনে এনেছি। এখন আমি যদি গাছটায় আজকে পানি দেই, সার দেই, চারাগাছের গোঁড়ার মাটিটুকুর অনেক যত্ন নেই, তাহলে কি আগামীকাল সকাল বেলাতেই আমার সেই চারাগাছটায় একটা গোলাপ ফুটবে? না।
ঠিক সেরকমই আমি একদিন চুলের একটু যত্ন নিয়ে যদি বাকিদিন চুলে ব্লো ড্রাই করি, স্ট্রেইটেনিং করি, ঠিকমত শ্যাম্পু না করি, চুলে ছিটেফোঁটা ও তেল না দেই, এমনকি ক্র্যাশ ডায়েট করতে গিয়ে না খেয়ে থেকে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনস আর মিনারেলসের ঘাটতি ঘটিয়ে বসে থাকি, এবং এই এত কিছু করার পর ও দুইদিন পর পর হায়হুতাশ করি যে “চুল পড়ে যাচ্ছে! চুল পড়ে যাচ্ছে! টাক হয়ে যাব কয়দিনের মধ্যেই! কি ম্যাজিকাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে একরাতের মধ্যে চুল পড়া বন্ধ হয়ে নতুন চুল গজানো স্টার্ট হয়ে যাবে?” তাহলে কি আদৌ আমাকে কোন কিছু সাহায্য করতে পারবে না।
চুল পড়া এখন আমাদের জাতীয় সমস্যা! আর এর সমাধান হচ্ছে নিয়মিত যত্ন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং সহজলভ্য উপাদান দিয়েই চুলপড়ার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
এইগুলো তৈরি করা একেবারেই সহজ, উপকরণগুলো আমাদের হাতের কাছেই, এমনকি রান্নাঘরে থাকে! আজকে আপনাদের সাথে এমন কিছু অ্যান্টি হেয়ারফল মাস্ক শেয়ার করতে যাচ্ছি যেগুলো রেগুলার ব্যাসিসে ব্যবহার করলে মাস দুয়েকের মধ্যেই চুল পড়া ভিজিবলি কমবে।
চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক সমাধানঃ
– মেহেদি, নারকেল তেল, আমলকীর মাস্ক
বাজার থেকে মেহেদি পাতা কিনে বেটে নিতে পারেন, আবার গুঁড়ো মেহেদি ও কিনে নিতে পারেন।
আধা বাটি মেহেদি বাটা/গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল আর ২টা আমলকী বাটা/গুঁড়ো মিক্স করে নিন।
এবার পুরো মাথার চুলকে ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিয়ে পুরো মাথায় আগাগোড়া প্যাকটি লাগিয়ে নিন।
এক ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
মেহেদিতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাংগাল প্রোপার্টি যা চুল পরার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়।
-আমলকীর গুণের কথা কে না জানে?
আমলকীর ভিটামিন সি চুলকে গোঁড়া থেকে মজবুত করে, ড্রাই স্ক্যাল্পের ইচিনেস কমায়, চুলকে হেলদি আর শাইনি করে তোলে। আর চুলের ডীপ নারিশমেন্টের জন্য যে নারকেল তেলের তুলনা হয় না সে তো আমরা জানিই। নারকেল তেল খুব সহজেই চুলের গোঁড়ায় প্রবেশ করে চুলকে ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর প্রোটিন চুলকে মজবুত করে তোলে। ফলে চুল হয়ে ওঠে ঘন আর মজবুত।
– মেথি, নারকেল তেল, টক দইয়ের মাস্ক ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সাথে আধ বাটি টক দই আর ২ চা চামচ মেথি বাটা/গুঁড়ো মিক্স করে নিন। এবার পুরো মাথার চুলকে ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিয়ে পুরো মাথায় আগাগোড়া প্যাকটি লাগিয়ে নিন।
এক ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
মেথিতে আছে লেসিথিন, প্রোটিন, ভিটামিন সি আর পটাসিয়াম যা চুলের গোঁড়াকে মজবুত করে তোলে এবং চুল পড়া কমায়। টক দই আর নারকেল তেল দুটোই চুলের এবং স্ক্যাল্পের ডীপ কন্ডিশনিং এর পাশাপাশি চুলের কিউটিকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ফলে চুল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত আর ঝলমলে উজ্জ্বল।
-পেঁয়াজের রস, নারকেল তেল, অ্যালোভেরা জেলের মাস্ক ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সাথে অর্ধেকটা পেঁয়াজের রস আর ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মিক্স করে নিন। এবার পুরো মাথার চুলকে ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিয়ে পুরো মাথায় আগাগোড়া প্যাকটি লাগিয়ে নিন।
এক ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। পেঁয়াজের সালফার, ভিটামিনস এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টস খুশকি এবং স্ক্যাল্পের অন্যান্য সমস্যা দূর করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল চুলের উপরের প্রোটেক্টিভ লেয়ারকে সুরক্ষা দেয়, হেয়ার ব্রেকেজ রোধ করে।
-অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, নারকেল তেল, ডিমের মাস্ক একটা ডিমের সাথে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল আর ২ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিক্স করে নিন।
এবার পুরো মাথার চুলকে ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিয়ে পুরো মাথায় আগাগোড়া প্যাকটি লাগিয়ে নিন। এক ঘণ্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ডিমের প্রোটিনের কথা কে না জানে! চুলের ডীপ কন্ডিশনিং এর জন্য ডিমের তুলনা হয় না।
আর অ্যাপল সাইডার ভিনেগার চুলের ন্যাচারাল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, চুলের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখে এবং চুলকে সিল্কি আর শাইনি করে তোলে।
-নারকেল তেলে আছে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড যা চুল পড়া বন্ধ করে ড্যামেজড চুলকে ডীপলি পেনেট্রেট করে। আর চুলের ন্যাচারাল প্রোটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে চুলকে অতিরিক্ত তাপ আর ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। ফলে চুল মাঝখান থেকে ভেঙ্গে পড়া ও বন্ধ হয়।
তাহলে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে এক-দুই দিন একটু কষ্ট করে নিজের জন্য, নিজের চুলের যত্নের জন্য একটু সময় বের করুন। এবং এই প্যাকগুলোর মধ্যে আপনার হাতের কাছে যে উপাদানগুলো সজজলভ্য থাকে, সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করুন।
মেহেদি পাতা অথবা গুঁড়ো, মেথি, টক দই, ডিম, পেঁয়াজ এসব তো বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়।
আর অ্যালোভেরার গাছ বাসায় থাকলে সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন অথবা বাজারে যেগুলো কিনতে পাওয়া যায় সেগুলো ও ব্যবহার করতে পারেন। আর নারকেল তেল তো আমাদের সবার বাসাতেই কমবেশি থাকে। বাজারে যেসব ব্র্যান্ড পাওয়া যায় সেগুলো কিনতে পারেন অথবা বাসায় নিজে নিজে খাঁটি নারকেল তেল তৈরি করে নিতে পারেন।
সেই সাথে প্রতিদিন অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন, প্রোটিন, ভিটামিনস আর মিনারেলস সমৃদ্ধ খাবার খাবেন।
মনে রাখবেন, চুল পড়া কিন্তু একদিনে কমবে না।
আর এক রাতের ভিতর কিন্তু ঝলমলে উজ্জ্বল চুল পাওয়া সম্ভব নয়।
কাজেই প্রয়োজন একটু ধৈর্য্য আর নিজের প্রতি ভালোবাসা!

No comments