মেছতা কাদের বেশি হয়? জেনে রাখুন, সতর্ক হন
অনেকের, বিশেষ করে নারীদের, মুখে, থুতনিতে, কপালে ও গালে হালকা বাদামি, কালো বা লালচে ছোপ দেখা যায়। এটি মেছতা নামে পরিচিত। ত্বকের রঞ্জক পদার্থ মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। দিন যত যায়, রঙের গাঢ়ত্ব তত বাড়ে এবং রোগী এক বিব্রতকর সমস্যায় পড়ে যান। মেছতা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরা বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের এটি এক বিরাট সমস্যা।
মেছতা আসলে কী
মেছতা বলা হয়। এর আসল নাম মেলাজমা। মাঝে মাঝে মুখ ছাড়াও চিবুক ও বাহুর উপরিভাগেও মেছতার কালো ছোপ পড়তে পারে। মেছতার এই দাগ স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ব্যাহত করে এবং এর জন্য অনেকে নানা ধরনের টোটকা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু এর চিকিৎসা আছে, তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
গর্ভধারণ করার পর হরমোনের প্রভাবে অনেক সময় মুখে মেছতা পড়তে পারে। বংশগতির প্রভাব, অতিরিক্ত সূর্যালোক, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের সমস্যা, যেমন থাইরয়েড বা ডিম্বাশয়ের সমস্যায় এটা হতে পারে। ত্বকের কালো রঙের জন্য দায়ী যে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ, এতে সেই পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।
মেছতা বলা হয়। এর আসল নাম মেলাজমা। মাঝে মাঝে মুখ ছাড়াও চিবুক ও বাহুর উপরিভাগেও মেছতার কালো ছোপ পড়তে পারে। মেছতার এই দাগ স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ব্যাহত করে এবং এর জন্য অনেকে নানা ধরনের টোটকা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু এর চিকিৎসা আছে, তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
গর্ভধারণ করার পর হরমোনের প্রভাবে অনেক সময় মুখে মেছতা পড়তে পারে। বংশগতির প্রভাব, অতিরিক্ত সূর্যালোক, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের সমস্যা, যেমন থাইরয়েড বা ডিম্বাশয়ের সমস্যায় এটা হতে পারে। ত্বকের কালো রঙের জন্য দায়ী যে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ, এতে সেই পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।
কালো রং হলেই কি মেছতা?
প্রাসঙ্গিক কোনো উপসর্গ নেই। কোনো চুলকানি বা ব্যথা কিছু হবে না। শুধু মেছতার মতো অনেক সময় কালো দাগ তৈরি করতে পারে। কতগুলো তিলজাতীয় জিনিস রয়েছে। যেমন- লিভাস নোটা, লিভাস আইটো। দেখতে অনেকটা কালো দাগ, তবে আসলে মেছতা নয়। সাধারণত এটি এক পাশে হয়ে থাকে। মেছতা দু’পাশেই হয়। এটি ছাড়া আর অন্য কোনো রোগ বিশেষ জড়িত নয়। মেছতা সাধারণত একটি বিশেষ বয়সে হয়। বিশেষ কারণেও হয়ে থাকে। সে কারণগুলোর ভেতরে হরমোনের প্রাধান্যই বেশি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। তবে ছেলেদের যে মেছতা হয় না, তা নয়।
প্রাসঙ্গিক কোনো উপসর্গ নেই। কোনো চুলকানি বা ব্যথা কিছু হবে না। শুধু মেছতার মতো অনেক সময় কালো দাগ তৈরি করতে পারে। কতগুলো তিলজাতীয় জিনিস রয়েছে। যেমন- লিভাস নোটা, লিভাস আইটো। দেখতে অনেকটা কালো দাগ, তবে আসলে মেছতা নয়। সাধারণত এটি এক পাশে হয়ে থাকে। মেছতা দু’পাশেই হয়। এটি ছাড়া আর অন্য কোনো রোগ বিশেষ জড়িত নয়। মেছতা সাধারণত একটি বিশেষ বয়সে হয়। বিশেষ কারণেও হয়ে থাকে। সে কারণগুলোর ভেতরে হরমোনের প্রাধান্যই বেশি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। তবে ছেলেদের যে মেছতা হয় না, তা নয়।
মেয়েদের কি বেশি হয়?
হ্যাঁ। মেয়েদের বেশি হয়। কারণ, গর্ভাবস্থায় মেছতার প্রভাব হয়। গর্ভাবস্থায় কিছু হরমোন প্রাধান্য পায়। সে জন্য এই মেছতা বেশি হয়ে যায়। আবার যখন মেনোপজ হয়, নারীদের তখনও হয়। অথবা কোনো কোনো সময় হরমোনের ওষুধ খাওয়ার জন্য হতে পারে।
হ্যাঁ। মেয়েদের বেশি হয়। কারণ, গর্ভাবস্থায় মেছতার প্রভাব হয়। গর্ভাবস্থায় কিছু হরমোন প্রাধান্য পায়। সে জন্য এই মেছতা বেশি হয়ে যায়। আবার যখন মেনোপজ হয়, নারীদের তখনও হয়। অথবা কোনো কোনো সময় হরমোনের ওষুধ খাওয়ার জন্য হতে পারে।
বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। এই ওষুধ যারা খায়, তাদের বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্য কারণও রয়েছে। যেমন- সূর্যের আলোর প্রভাব। সূর্যের আলোতে যারা বেশি থাকে, তাদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি মুখে পড়ার কারণে মেছতার প্রাধান্য বেশি হয়।
বর্তমানে কেমিক্যাল পিলিং, মাইক্রোডার্মাবেশন ও পিআরপি থেরাপির মাধ্যমে মেছতার চিকিৎসা করা হচ্ছে। কিছু আধুনিক মলম ও মুখে খাওয়া ট্যাবলেটও মেছতা চিকিৎসায় কার্যকর।
ধরণ
মেচতা মূলত দুই ধরনের হয়। এপিডারমাল মেলাজমা ও ডারমাল মেলাজমা। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং অধ্যাপক ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।
মেচতা মূলত দুই ধরনের হয়। এপিডারমাল মেলাজমা ও ডারমাল মেলাজমা। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং অধ্যাপক ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।
ত্বকের উপরের অংশে যে মেচতা হয় তাকে এপিডারমাল মেলাজমা বলা হয়। আর ডারমাল মেলাজমা হয় ত্বকের ভেতরের অংশে। এপিডারমাল মেলাজমার চিকিৎসা সহজ তবে ডারমাল মেলাজমার চিকিৎসা একটু জটিল হয়।
মেচতার সবচাইতে প্রচলিত কারণ রোদেপোড়া। এছাড়াও জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়ার কারণে হরমোনের প্রভাবে মেচতা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মেচতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে মেচতা হতে পারে, ডাক্তারি ভাষায় একে বলা ‘মেলাজমা কসমেটিকা’। যকৃতের জটিলতার কারণে যে মেচতা হয় তাকে বলা হয় ‘মেলাজমা হেপাটিকা’।
মেছতা হলে করণীয়
সুন্দর মুখ মানেই দাগহীন কোমল মসৃণ ত্বক। সেই মুখশ্রীতে অনেক সময় আমাদের কিছু ভুলের কারণে বা নানাবিধ কারণে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ। এই দাগ সৌন্দর্যহানি ও বিব্রতকর। এমনই একটি সাধারণ দাগ হলো মেছতা। মেছতাকে মেলাজমা, ক্লোয়াজমা ফেসি বলা হয়। জরিপে দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে মেয়েদের মেছতা বেশি হয় এবং রিপ্রোডাকটিভ এজেই বেশি দেখা দেয়। নারী-পুরুষের অনুপাত ৯:১। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেছতার প্রকোপ বেশি। এবার আসুন, জেনে নিই এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায়।
সুন্দর মুখ মানেই দাগহীন কোমল মসৃণ ত্বক। সেই মুখশ্রীতে অনেক সময় আমাদের কিছু ভুলের কারণে বা নানাবিধ কারণে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ। এই দাগ সৌন্দর্যহানি ও বিব্রতকর। এমনই একটি সাধারণ দাগ হলো মেছতা। মেছতাকে মেলাজমা, ক্লোয়াজমা ফেসি বলা হয়। জরিপে দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে মেয়েদের মেছতা বেশি হয় এবং রিপ্রোডাকটিভ এজেই বেশি দেখা দেয়। নারী-পুরুষের অনুপাত ৯:১। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেছতার প্রকোপ বেশি। এবার আসুন, জেনে নিই এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায়।
গর্ভধারণকালে যে মেছতা পড়ে, তা সন্তান জন্মের পর এমনিতেই কমে যায়। রোদে বা বাইরে বের হলে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানব্লক ব্যবহার করুন। প্রচণ্ড রোদে ছাতা ব্যবহার করুন। হরমোনের সমস্যা আছে কি না, শনাক্ত করে চিকিৎসা নিন। হাইড্রোকুইনোন সমৃদ্ধ ব্লিচিং ও ভিটামিন এ যুক্ত ক্রিম অনেক সময় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেথিমাজোল, এজেলিক অ্যাসিড, স্টেরয়েড ক্রিম ইত্যাদিও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এগুলো প্রসাধন ক্রিম নয়, এগুলো ওষুধ। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যাল পিলিং এবং লেজার চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
মেছতা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এটি সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত বাদামি বর্ণের হলেও ত্বকের গভীরতা, ত্বকের ধরন অনুযায়ী রঙের হালকা তারতম্য হতে পারে। ত্বকের স্তর ও মুখমণ্ডলের বিভিন্ন অংশ, পরিসরের ওপর ভিত্তি করে মেছতা শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। গভীরতা অনুযায়ী এপিডার্মাল, ডার্মাল ও মিক্সড মেলাজমা নামকরণ করা হয়েছে। সেন্ট্রোফেসিয়াল মেলাজমা থুতনি, কপাল ও নাকে হয়।
এ ধরনের মেলাজমার হার বেশি। ৬ ভাগ মেলাজমাই সেন্ট্রোফেসিয়াল। ম্যালার মেলাজমা দুই চিবুকে সমানভাবে আর ম্যান্ডিবুলার টাইপ চোয়ালের নিচে হয়। মেছতা মুখ ছাড়াও হঠাৎ করে দুই বাহুতে হতে পারে। তবে এর হার খুবই কম। মেলানোসাইট সেল দিয়ে তৈরি বাড়তি মেলানিনের কারণেই সৃষ্টি হয় মেছতার। এর অসংখ্য কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বংশগত কারণটি প্রধান। কিছু কিছু রোগেও মেছতা বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ হাইপোথাইরয়েডিজম। গর্ভাবস্থায় মেছতার হঠাৎ আবির্ভাব হয় বলে একে মাস্ক অব প্রেগনেন্সি বলা হয়। আমাদের দেশে অধিকাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা হিসেবে বেছে নেন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। বার্থ কন্ট্রোল পিল দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ হচ্ছে।
তবে অন্যদিকে আক্রান্ত হচ্ছেন মেছতায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির মতো পোস্ট হরমোনাল থেরাপিও মেছতার একটি কারণ। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে, চুলার তাপ মেলানিন তৈরির উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহার করা হয় অথবা হালকা মেছতা মেকআপ দিয়ে ঢাকার জন্য যেসব প্রচেষ্টা চালানো হয়, সেসব প্রসাধনীর ক্ষতিকর কেমিক্যাল, ফ্রেগ্রনেন্স মেছতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু চোখে দেখেই মেছতার ডায়াগনোসিস সম্ভব। এ ছাড়া সাহায্য নেওয়া যায় উড্স ল্যাম্পের। উড্স ল্যাম্পে এপিডার্মাল ও ডার্মাল-এর পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এপিডার্মাল উড্স ল্যাম্পে গাঢ় ও ডার্মাল হালকা দেখায়। প্রেগনেন্সিতে মেছতার আবির্ভাব হলেও শিশু জন্মানোর কয়েক মাস পর মেছতা নিজে থেকেই চলে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা হরমোনাল থেরাপির কারণে এগুলোও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সে ক্ষেত্রে বেছে নিতে হবে জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্যান্য পদ্ধতি।
এক সময় মেছতার চিকিৎসায় স্কিন লাইটেনিং ক্রিম লোশন, সেরাম ব্যবহার করা হতো। এদের মধ্যে দুই ভাগ বা চার ভাগ হাইড্রোকুইননই বেশি জনপ্রিয়। হাইড্রোকুইননের সঙ্গে ট্রেটিনয়িক এসিড (০.২৫ ভাগ বা ০.০৫ ভাগ), হাইড্রোকর্টিসন যোগ করা হলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় ট্রেটিনয়িক এসিড ব্যবহার নিষিদ্ধ। একসময় এজোলিক এসিডের ব্যবহার করা হতো। সময়ের সঙ্গে যুগের চাহিদা অনুযায়ী মেছতার অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে।
ইদানীং মাইক্রোডার্মাব্রাসন ও ডায়ামন্ড পিল বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কখনো কখনো মাইক্রোডার্মাব্রাসনের সঙ্গে বা শুধু একা কেমিকেল পিল-এর পরামর্শ দেন ডার্মাটোলজিস্টরা। ৩০ ভাগ থেকে ৭০ ভাগ গ্লাইকোলিক এসিড বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব পদ্ধতি কয়েক সেশন লাগে। পিআরপি, মাইক্রোনিডলিং লেজার-এর মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে। এসব চিকিৎসার সঙ্গে অবশ্যই ৩০ বা ৫০ এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। কারণ কোনো চিকিৎসাই কার্যকরী হবে না যদি আপনি নির্দেশাবলি মেনে না চলেন।
মেছতা খুব সাধারণ একটি চর্মরোগ হলেও ডার্মাটোলজিস্টদের কাছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, অনেক রোগীই এই চিকিৎসায় সন্তুষ্ট নয়। এর অন্যতম কারণ হলো ডার্মাল বা গভীর মেলাজমা চিকিৎসার সাহায্যে হালকা হলেও খুব কম ক্ষেত্রেই পুরোপুরি সারে। সে ক্ষেত্রে হালকা হওয়াকেই উন্নতি বলে ধরে নিতে হবে। হতাশার কিছু নেই। মেছতার হালকা লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, সঠিক চিকিৎসার অভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেছতা বাড়তে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী হলে হয়তো কোনো চিকিৎসাই কার্যকর হয় না।
তাই এই চিকিৎসক পরামর্শ দেন, মেচতায় আক্রান্ত হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। আর এই সমস্যা আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সঠিক চিকিৎসায় মেচতা ভালো হয়। মেচতার চিকিৎসা নিয়ে পুরো পৃথিবী জুড়েই তোলপাড়। প্রতিনিয়তই বের হচ্ছে নিত্যনতুন ওষুধ, লোশন, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট ইত্যাদি। তবে মেচতা থেকে মুক্তি পেতে সবচাইতে জরুরি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
ঘর ছেড়ে যখনই রোদে বের হবেন সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে, নারী-পুরুষ উভয়েরই জন্যই এটি প্রযোজ্য। সানস্ক্রিনের এসপিএফ বা সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর ৩০ বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযুক্ত। তাই কেনার আগে এসপিএফ ৩০ দেখে কিনতে হবে।
মেচতা সারাতে যে কোনো কিছু ব্যবহারের আগে যাচাই বাছাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। পাশের বাড়ির বান্ধবীর কাছে শুনে হুট করেই কোনো কিছু ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বাজারে মেচতা সারানোর বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কিছু প্রসাধনীতে স্টেরয়েড মেশানো থাকে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরণ অনুযায়ি প্রসাধনী ব্যবহার করাও জরুরি।
মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায়
অনেক তো ব্যবহার করলেন নানান বিউটি প্রোডাক্ট, এইবার না হয় ঘরোয়া এই উপায়গুলো ব্যবহার করে দেখুন।
অনেক তো ব্যবহার করলেন নানান বিউটি প্রোডাক্ট, এইবার না হয় ঘরোয়া এই উপায়গুলো ব্যবহার করে দেখুন।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার
মেছতার দাগ দূর করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেশ কার্যকর। সমপরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং পানি একসাথে মিশিয়ে নিন। এরসাথে কিছু পরিমাণে মধু মেশান। এই মিশ্রণটি ত্বকের দাগের উপর ব্যবহার করুন। প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। এছাড়া আধা চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কয়েক চামচ কমলার রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকের মেছতার দাগের উপর লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করুন। চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ব্যবহার করুন।
মেছতার দাগ দূর করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেশ কার্যকর। সমপরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং পানি একসাথে মিশিয়ে নিন। এরসাথে কিছু পরিমাণে মধু মেশান। এই মিশ্রণটি ত্বকের দাগের উপর ব্যবহার করুন। প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। এছাড়া আধা চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সাথে কয়েক চামচ কমলার রস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকের মেছতার দাগের উপর লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করুন। চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ব্যবহার করুন।
চন্দন
চন্দনের অ্যান্টিএইজিং এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের হাইপারপিগমেনশন কমিয়ে মেছতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন এবং লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এই প্যাকটি কালো বা খয়েরী দাগের ওপর লাগান। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এটি করুন। এছাড়া প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চন্দন পাউডার, অলিভ অয়েল, বাদাম অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। সারারাত রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন।
চন্দনের অ্যান্টিএইজিং এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের হাইপারপিগমেনশন কমিয়ে মেছতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন এবং লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এই প্যাকটি কালো বা খয়েরী দাগের ওপর লাগান। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এটি করুন। এছাড়া প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চন্দন পাউডার, অলিভ অয়েল, বাদাম অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। সারারাত রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা
ত্বকের সমস্যা সমাধানে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকর। কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা মেছতা দাগের উপর ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ত্বকে ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে অ্যালোভেরা জুসও ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বকের সমস্যা সমাধানে অ্যালোভেরা বেশ কার্যকর। কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা মেছতা দাগের উপর ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ত্বকে ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে অ্যালোভেরা জুসও ব্যবহার করতে পারেন।
লেবুর রস
সবচেয়ে সহজলভ্য এবং কার্যকরী উপাদান হলো লেবুর রস। এর ব্লিচিং উপাদান ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করে দেয়। মেছতার মতো জেদী দাগ দূর করতেও লেবু কার্যকর। ত্বকের দাগের স্থানে লেবুর রস লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন করুন। ২ মাসের মধ্যে আপনি পার্থক্য দেখতে পারবেন। সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারীরা সরাসরি লেবু ব্যবহার না করে মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
সবচেয়ে সহজলভ্য এবং কার্যকরী উপাদান হলো লেবুর রস। এর ব্লিচিং উপাদান ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করে দেয়। মেছতার মতো জেদী দাগ দূর করতেও লেবু কার্যকর। ত্বকের দাগের স্থানে লেবুর রস লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন করুন। ২ মাসের মধ্যে আপনি পার্থক্য দেখতে পারবেন। সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারীরা সরাসরি লেবু ব্যবহার না করে মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
আরেকভাবে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবুর রসের সাথে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি দিয়ে দাগের স্থানে ম্যাসাজ করুন। বিশেষ করে ত্বকের খয়েরী দাগের জায়গাগুলোতে ভাল করে ম্যাসাজ করে নিন। ৫-১০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে কয়েকবার করুন। আপনি চাইলে এতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।
টমেটো: টমেটোর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। টমেটোর পাল্প ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে তিন- চার দিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে পরিষ্কার ও সজীব করে।
আলু: আলুর রস মেচতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি চোখের চার পাশে জমে থাকা কালো দাগ (ডার্ক সার্কেল) দূর করতে সাহায্য করে।
মুলতানি মাটি: মুলতানি মাটি ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। গোলাপজল, সবুজ চা, শসার রস, লেবুর রস এবং পানি ও মুলতানি মাটির মিশ্রণটি তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক চা চামচ টমেটোর রস এবং চন্দন গুঁড়া, দুই চা চামচ মুলতানি মাটি একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ জেল ত্বকে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল দুই চা চামচ, এক চা চামচ লেবুর রস এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে হালকাভাবে ত্বকে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করুন।
স্ট্রবেরি: স্ট্রবেরি উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, হাইড্রোক্সি এসিড, স্যালিলিক এসিড, অ্যালিজিক এসিড সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করে, দাগ, একনে এবং ত্বক ফাটা থেকে রক্ষা করে। দুই থেকে তিনটি স্ট্রবেরি চটকে নিন। দুই চা চামচ দই এবং মধু মিশিয়ে নিন। হালকাভাবে ত্বকে ম্যাসাজ করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর এটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতার দাগ দূর করা সময় সাপেক্ষ হলেও কার্যকর। কেমিক্যাল মুক্ত হওয়ায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নির্ভাবনা ব্যবহার করতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়গুলো।
No comments